সিলেট ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে এ কম্পন অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইউরো-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ও আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪।
মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস ও ইউরো-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ভারতের আসাম রাজ্যের ধিং শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে এবং গুয়াহাটি থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার।
নগরীর কুমারপাড়া, জিন্দাবাজার, উপশহর, আম্বরখানা, টিলাগড়, শাহপরান থানা এলাকা ছাড়াও দক্ষিণ সুরমা, জৈন্তাপুর ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায়ও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এদিকে ভূকম্পনের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই পোস্ট দিয়ে জানান, তারা ভোরে ভূকম্পন অনুভব করেছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ভূকম্পনের মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে কিছু জানায়নি। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বর মধ্যরাতে সিলেটে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই দিন দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথম ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর ২টা ২৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে দ্বিতীয়বার কেঁপে উঠে সিলেট। দুটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বিয়ানিবাজারে।
উল্লেখ্য, সিলেট অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এর আগে বিভিন্ন সময়ে এখানে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।